ঢাকা ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন,

আলোকিত সম্প্রচার ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 83

“সমঝোতা বা জোট কোনো কৌশলগত বা সুবিধাবাদী কারণে নয়, বরং আদর্শিক জায়গা থেকে হতে পারে।” তিনি বলেন, “জুলাই সনদের সংস্কারমূলক দাবির সঙ্গে যদি কোনো রাজনৈতিক দল সংহতি প্রকাশ করে, তবে আমরা জোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তবে এখন পর্যন্ত আমরা এককভাবেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

 

নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করবে।

 

বুধবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে শহীদ জুলাই যোদ্ধা গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছি—৩০০ আসনেই এনসিপির অংশগ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে। তবে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের সম্মানের জায়গা থেকে আমরা কিছু আসনে প্রার্থী দেব না। অন্যান্য আসনে শাপলা কলি প্রতীকেই আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিকে পরিবর্তন করতে চাই। যারা অর্থবল, প্রভাববল বা গডফাদারগিরির মাধ্যমে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতেই আমাদের এই অংশগ্রহণ। আমরা চাই সাধারণ, সৎ ও জনপ্রিয় মানুষ সংসদে যাক—যাদের জনগণ তাদের প্রয়োজনে পাশে পায়।”

 

গাজী সালাহউদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছিল, কিন্তু তা পালন করা হয়নি। ফলে আমাদের শহীদ ও আহতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন, কিন্তু তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।”

 

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত যোদ্ধাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। নইলে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে না।”

 

গাজী সালাহউদ্দিনের মৃত্যুর প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “তিনি মৃত্যুর কিছুদিন আগে এক রাজনৈতিক দলের কর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। বিষয়টি থানাতেও গিয়েছে বলে শুনেছি। এমনকি জুলাই যোদ্ধাদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়েও এখন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।”

 

তিনি বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই যোদ্ধাদের পাশে আছে। সরকার ও সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্ব নিতে হবে—কারণ এদের ত্যাগের কারণেই আমরা ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করতে পেরেছি এবং নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।”

 

নাহিদ ইসলাম শেষ করেন এ আহ্বান জানিয়ে, “নির্বাচনী ব্যস্ততার মাঝেও যেন আমরা আমাদের শহীদ ও আহতদের কথা ভুলে না যাই। পরবর্তী সরকার যেই আসুক না কেন, এই দায়বদ্ধতা যেন অটুট থাকে।”

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন,

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

“সমঝোতা বা জোট কোনো কৌশলগত বা সুবিধাবাদী কারণে নয়, বরং আদর্শিক জায়গা থেকে হতে পারে।” তিনি বলেন, “জুলাই সনদের সংস্কারমূলক দাবির সঙ্গে যদি কোনো রাজনৈতিক দল সংহতি প্রকাশ করে, তবে আমরা জোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তবে এখন পর্যন্ত আমরা এককভাবেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

 

নাহিদ ইসলাম জানান, এনসিপি ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করবে।

 

বুধবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে শহীদ জুলাই যোদ্ধা গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছি—৩০০ আসনেই এনসিপির অংশগ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে। তবে যারা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের সম্মানের জায়গা থেকে আমরা কিছু আসনে প্রার্থী দেব না। অন্যান্য আসনে শাপলা কলি প্রতীকেই আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”

 

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিকে পরিবর্তন করতে চাই। যারা অর্থবল, প্রভাববল বা গডফাদারগিরির মাধ্যমে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের চ্যালেঞ্জ জানাতেই আমাদের এই অংশগ্রহণ। আমরা চাই সাধারণ, সৎ ও জনপ্রিয় মানুষ সংসদে যাক—যাদের জনগণ তাদের প্রয়োজনে পাশে পায়।”

 

গাজী সালাহউদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার দায়িত্ব অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছিল, কিন্তু তা পালন করা হয়নি। ফলে আমাদের শহীদ ও আহতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন, কিন্তু তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না।”

 

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত যোদ্ধাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। নইলে এই মৃত্যুর মিছিল থামবে না।”

 

গাজী সালাহউদ্দিনের মৃত্যুর প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “তিনি মৃত্যুর কিছুদিন আগে এক রাজনৈতিক দলের কর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। বিষয়টি থানাতেও গিয়েছে বলে শুনেছি। এমনকি জুলাই যোদ্ধাদের রাজনৈতিক নিরাপত্তা নিয়েও এখন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।”

 

তিনি বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই যোদ্ধাদের পাশে আছে। সরকার ও সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্ব নিতে হবে—কারণ এদের ত্যাগের কারণেই আমরা ফ্যাসিবাদকে বিতাড়িত করতে পেরেছি এবং নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি।”

 

নাহিদ ইসলাম শেষ করেন এ আহ্বান জানিয়ে, “নির্বাচনী ব্যস্ততার মাঝেও যেন আমরা আমাদের শহীদ ও আহতদের কথা ভুলে না যাই। পরবর্তী সরকার যেই আসুক না কেন, এই দায়বদ্ধতা যেন অটুট থাকে।”